[বিশ্লেষণ] বাংলার নবজাগরণ ছিল কলকাতা শহরকেন্দ্রিক

[বিশ্লেষণ] বাংলার নবজাগরণ ছিল কলকাতা শহরকেন্দ্রিক : বন্ধুরা আপনারা কি “বাংলার নবজাগরন ছিল কলকাতা শহর কেন্দ্রিক বিষশ্লেষন করো” এই বিষয়ে জানতে চান! তাহলে আজ আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন, আজ আমরা এখানে “বাংলার নবজাগরণ কলকাতা কেন্দিক” এই বিষয়ে সম্পূর্ণ তথ্য দেবো. তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক :-

বাংলার নবজাগরণের ভূমিকা

ঊনিশ শতকে পাশ্চাত্য সভ্যতার সংস্পর্শে আসার পর বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজে দেখা দেয় আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির।যার ভিত্তি ছিল যুক্তি ও মানবতাবাদ।এই যুক্তি ও মানবতাবাদ সে সময়ের শিক্ষা, সাহিত্য,ধর্ম, সমাজ সব কিছুকেই গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল.

১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দে কনস্ট্যান্টিনোপলের পতনের পর ইতালিতে যে নবজাগরণ বা রেনেসাঁস দেখা দিয়েছিল তার সাথে তুলনা করে বাংলার এই জাগরণকে  “নবজাগরণ” আখ্যা দেওয়া হয়.

বাংলার নবজাগরণ এর প্রভাব বিতর্ক

উনিশ শতকের এই জাগরণ তার প্রকৃতি, তার স্বরূপ, গুরুত্ব এই সমস্ত কিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে একে ইটালির রেনেসাঁ বা নবজাগরণ এর সঙ্গে আদৌ তুলনা করা যায় কি না তা নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে.

নবজাগরণের চরিত্র নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন পন্ডিত ব্যক্তি ও ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতপার্থক্য আছে।তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিতর্ক হল :-

“নবজাগরণ কি কলকাতা শহর কেন্দ্রিক ছিল, না সমস্ত জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছিল”.

বাংলার নবজাগরণ ছিল কলকাতা শহরকেন্দ্রিক ব্যাখ্যা

বাংলার নবজাগরণ ছিল কলকাতা শহরকেন্দ্রিক
বাংলার নবজাগরণ ছিল কলকাতা শহরকেন্দ্রিক

ঊনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণের বাস্তবতা নিয়ে  প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে. অশোক মিত্র, ড: বিনয় ঘোষ, সুমিত সরকার প্রমূখ ঐতিহাসিকগণ বলেছেন যে এটি একটি ঐতিহাসিক প্রতারণা.

ঐতিহাসিক অরবিন্দ পোদ্দার এই নবজাগরণ কে বলেছেন এক অসত্য নিরস ঘটনা. যুক্তি হিসেবে তারা দেখিয়েছেন যে :-

১. বাংলার জাগরণ শুধু পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত প্রগতিশীল সমাজে সীমাবদ্ধ ছিল.

২. বাংলার নবজাগরণের ব্যাক্তি ছিল খুবই সীমিত এবং তা ছিল মূলত শহরকেন্দ্রিক। বিশেষ করে কোলকাতা কেন্দ্রিক.

৩. এই নবজাগরণ মূলত মধ্যবিত্ত শ্রেণী এবং অভিজাতদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।যাঁদের “মধ্যবিত্ত ভদ্রলোক” বলে অভিহিত করা হত।এই কারণে কলকাতা কেন্দ্রিক মধ্যবিত্ত ভদ্রলোকদের এই নবজাগরণকে অধ্যাপক অনিল শীল “এলিটিস্ট আন্দোলন” বলেছেন.

৪. গ্রাম বাংলার বৃহত্তর জনগোষ্ঠী এই নবজাগরণের কোন সুফল পায়নি। কলকাতায় নবজাগরণের যে ঢেউ আছড়ে পড়েছিল তার তার ছিটেফোঁটাও গ্রামবাংলায় পরিলক্ষিত হয়নি.

৫. বাংলার নবজগরণ ছিল মূলত বর্ণহিন্দুদের অর্থাৎ অভিজাত গোষ্ঠীর। সাধারণ মানুষ এবং মুসলিম সমাজ এর বাইরে ছিল.

৬. বাংলার নবজাগরণের প্রবক্তারা বাংলার ধর্মীয় কাঠামো, সমাজ সংগঠন এবং জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে পুরোপুরি সাফল্য লাভ করতে পারেননি.

৭. এই নবজাগরণ অনেকটা ইংরেজদের হাতে তৈরি করা নবজাগরণ। নবজাগরণের হোতারা মনে করতেন কেবলমাত্র ইংরেজ শাসনের দ্বারা ভারতবর্ষের মঙ্গল সাধন হবে.

৮. পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু এবং ঋষি অরবিন্দ ঘোষ মনে করেন যে ভারতের মাটিতে ইউরোপীয় ধাঁচের নবজাগরণ কখনোই সম্ভব নয়.

বাংলার নবজাগরণের গুরুত্ব তথা মূল্যায়ন

নবজাগরণের এই  নানান ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বাংলার এই নবজাগরণের গুরুত্বকে কখনো কিন্তু অস্বীকার করা যায় না.

পরাধীন দেশের নবজাগরণে বিভিন্ন ত্রুটি – দ্বিধা হয়তো থাকতে পারে, তা সত্ত্বেও এটা কিন্তু অবশ্যই মানতে হবে যে পরাধীন ভারতবর্ষে এই নবজাগরণ ই প্রথম একটা বৌদ্ধিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিল ভারতের মাটিতে. এরফলেই জন্ম নেয় ভারতের জাতীয়তাবাদ,ভারতের সার্বিক সংস্কার.

  • জনৈক জার্মান সমাজতত্ত্ববিদ এর মতে – “বাংলার নবজাগরণ এর দ্বারা ভারত বর্ষ মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগে উন্নীত হয়েছিল”.
  • Census Commissioner অশোক মিত্র ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দের সেন্সাস রিপোর্টে এটিকে বলেছেন – “So Called Renaissance”.

আমাদের শেষ কথা

তাই বন্ধুরা, আমি আশা করি আপনি অবশ্যই একটি Article পছন্দ করেছেন ([বিশ্লেষণ] বাংলার নবজাগরণ ছিল কলকাতা শহরকেন্দ্রিক)। আমি সর্বদা এই কামনা করি যে আপনি সর্বদা সঠিক তথ্য পান। এই পোস্টটি সম্পর্কে আপনার যদি কোনও সন্দেহ থাকে তবে আপনাকে অবশ্যই নীচে মন্তব্য করে আমাদের জানান। শেষ অবধি, যদি আপনি Article পছন্দ করেন (বাংলার নবজাগরণ ছিল কলকাতা শহরকেন্দ্রিক), তবে অবশ্যই Article টি সমস্ত Social Media Platforms এবং আপনার বন্ধুদের সাথে Share করুন।

Leave a Comment